জ্বর কী? কারণ, লক্ষণ এবং প্রাথমিক ধারণা

Medically Approved by Dr. Shuchi

Table of Contents

জ্বর কী? কারণ, লক্ষণ এবং প্রাথমিক ধারণা

ভারতে মানুষের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো জ্বর। এটি নিজে কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের কোনো কিছুর প্রতি প্রতিক্রিয়ার একটি লক্ষণ। এই প্রবন্ধে জ্বর কী, এর কারণ, লক্ষণ এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, তা আলোচনা করা হয়েছে।

 

জ্বর কাকে বলে?

জ্বর হলো শরীরের তাপমাত্রার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে সাময়িক বৃদ্ধি। মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। শরীরের তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বা তার বেশি হলে তাকে জ্বর বলা হয়

 

জ্বর বলতে কী বোঝায়?

সব জ্বর একরকম হয় না। তাপমাত্রা কতটা বাড়ে তার ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্যকর্মীরা জ্বরকে বিভিন্ন গ্রেডে ভাগ করেন, কারণ প্রতিটি স্তরের ঝুঁকি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

 

জ্বরের মাত্রা তাপমাত্রা (সেলসিয়াস) তাপমাত্রা (ফারেনহাইট) এটি যা নির্দেশ করে
স্বাভাবিক ৩৬.১ থেকে ৩৭.২ সে. ৯৭ থেকে ৯৯ ফারেনহাইট জ্বর নেই
হালকা জ্বর ৩৭.৩ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ৯৯.১ থেকে ১০০.৩ ফারেনহাইট মৃদু রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্রিয়তা
মাঝারি মাত্রার জ্বর ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ১০০.৪ থেকে ১০২.২ ফারেনহাইট সক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যা প্রায়শই সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে।
উচ্চ মাত্রার জ্বর ৩৯.১ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ১০২.৩ থেকে ১০৫.৮ ফারেনহাইট গুরুতর সংক্রমণ বা প্রদাহ; চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
হাইপারপাইরেক্সিয়া ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ১০৬.৭ ফারেনহাইটের উপরে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা; অঙ্গহানির ঝুঁকি

 

জ্বরের লক্ষণগুলো কী কী?

জ্বরের সাথে সাধারণত যে লক্ষণগুলো দেখা যায়, সেগুলো হলো:

 

  1. শীত ও কাঁপুনি
  2. ঘাম
  3. মাথাব্যথা এবং শরীর ব্যথা
  4. ক্লান্তি এবং দুর্বলতা
  5. ক্ষুধামান্দ্য
  6. ত্বক লাল হয়ে ওঠে এবং স্পর্শে গরম অনুভূতি হয়।
  7. স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত হৃদস্পন্দন

 

জ্বর কেন হয়?

যখন শরীর কোনো সংক্রমণ বা বহিরাগত পদার্থ শনাক্ত করে, তখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পাইরোজেন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। এগুলো মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হাইপোথ্যালামাসকে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার সংকেত দেয়। এই বর্ধিত তাপমাত্রা ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বৃদ্ধিকে ধীর করে দেয়, ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিরোধ করার জন্য আরও ভালো সুযোগ পায়।

 

জ্বরের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 

  1. ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যেমন ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং কোভিড-১৯।
  2. ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যেমন টাইফয়েড, যক্ষ্মা এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ।
  3. পরজীবী সংক্রমণ, যেমন ম্যালেরিয়া।
  4. রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং লুপাসের মতো অটোইমিউন রোগ

 

প্রাপ্তবয়স্কদের ঘন ঘন জ্বরের কারণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো অসম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা করা সংক্রমণ, যক্ষ্মার মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ, অথবা অন্তর্নিহিত অটোইমিউন ডিসঅর্ডার, যেখানে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শরীরের নিজস্ব টিস্যুকেই আক্রমণ করে।

 

জ্বর কীভাবে সামলাবেন?

বেশিরভাগ হালকা থেকে মাঝারি জ্বর বাড়িতেই সামলানো যায়। যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ নিজে নিজে ওষুধ খেলে রোগের লক্ষণগুলো চাপা পড়ে যেতে পারে এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ে দেরি হতে পারে।

 

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

জ্বর ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে গেলে, তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে, অথবা কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জ্বরের সাথে শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথাব্যথা, ত্বকে ফুসকুড়ি, ক্রমাগত বমি বা বিভ্রান্তি থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসা প্রয়োজন। তিন মাসের কম বয়সী শিশুদের যেকোনো জ্বর হলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

 

জ্বর দেখা দিলে, দ্রুত একজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে পরামর্শ করা এবং সঠিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই হলো জ্বরের কারণ শনাক্ত করার ও যথাযথ চিকিৎসা শুরু করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে সুবিধামত জ্বর পরীক্ষা করুন, ডাউনলোড করুন আজই ডঃ লাল প্যাথল্যাবস অ্যাপ ব্যবহার করুন!

 

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

  1. ঘন ঘন জ্বরের কারণ ও প্রতিকার কী?
    ঘন ঘন জ্বর প্রায়শই বারবার হওয়া বা সেরে না ওঠা সংক্রমণ, অটোইমিউন রোগ, অথবা যক্ষ্মার মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ইঙ্গিত দেয়। এর প্রতিকারের মধ্যে রয়েছে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত করা, শরীরে পর্যাপ্ত জল রাখা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।
  2. শরীরে হালকা জ্বর কেন হয়?
    শরীরের তাপমাত্রার সামান্য বৃদ্ধি হলো ছোটখাটো সংক্রমণ, মৃদু প্রদাহ বা টিকা পরবর্তী কার্যকলাপের প্রতি দেহের প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া।
  3. কোন তাপমাত্রায় মানুষ মারা যায়?
    শরীরের তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা একটি জরুরি অবস্থা। ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
[single_tags_list]
58 Views

Get Tested with Doctor-Curated Packages for a Healthier Life

Related Posts

Categories

Other Related Articles