চিকুনগুনিয়া কী? কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
- 16 Dec, 2025
- Written by Team Dr Lal PathLabs
Medically Approved by Dr. Shuchi
Table of Contents

ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর-বোর্ন ডিজিজেস অনুযায়ী, প্রতিবছর দশ হাজারের বেশি মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হন। এই মশাবাহিত রোগ সাধারণত ঘনবসতিপূর্ণ শহর ও আধা-শহর এলাকায় দেখা যায়, যেখানে জমে থাকা জলেতে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
চিকুনগুনিয়া চিকিৎসা না করলে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই লেখায় চিকুনগুনিয়া কী, এর লক্ষণ ও ধরন আলোচনা করা হয়েছে।
চিকুনগুনিয়া কী?
চিকুনগুনিয়া হলো চিকুনগুনিয়া ভাইরাস (CHIKV) দ্বারা সৃষ্ট একটি ভেক্টর-বোর্ন ভাইরাল সংক্রমণ। এই রোগের বৈশিষ্ট্য হলো হঠাৎ উচ্চ জ্বর এবং তীব্র জয়েন্টের ব্যথা, যা হাঁটাচলা কঠিন করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, পেশির ব্যথা ও ক্লান্তিও দেখা দেয়।
চিকুনগুনিয়া খুব কম ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়। তবে কখনও কখনও এটি জীবনমানকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ সুস্থ হওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ বা মাসব্যাপী জয়েন্টে ব্যথা থাকতে পারে।
চিকুনগুনিয়া রোগের ধরন কী কী?
সাধারণত চিকুনগুনিয়ার দুটি ক্লিনিক্যাল ধরণ রয়েছে—
- অ্যাকিউট চিকুনগুনিয়া: এই ক্ষেত্রে চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ হঠাৎ দেখা দেয় এবং কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ থাকে। বেশিরভাগ রোগী এই পর্যায়েই সুস্থ হয়ে যান।
- ক্রনিক চিকুনগুনিয়া: কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে, বিশেষত বয়স্কদের বা যাদের আগে থেকেই জয়েন্টের সমস্যা আছে, তাদের সুস্থ হওয়ার পরও মাসের পর মাস জয়েন্ট ব্যথা ও প্রদাহ থাকতে পারে।
চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ কী?
চিকুনগুনিয়া রোগের কিছু লক্ষণ হলো—
- হঠাৎ উচ্চ জ্বর
- তীব্র জয়েন্টের ব্যথা (বিশেষ করে কবজি, গোড়ালি, হাঁটু ও আঙুলে)
- শরীরব্যথা ও পেশির ব্যথা
- ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- জয়েন্ট ফুলে যাওয়া
- মাথাব্যথা
- কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে র্যাশ
লক্ষণ সাধারণত মশার কামড়ের 2–7 দিনের মধ্যে দেখা দেয়।
চিকুনগুনিয়া কেন হয়?
চিকুনগুনিয়া রোগ ছড়ায় সংক্রমিত এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিক্টাস মশার কামড়ে। এসব মশা দিনে সক্রিয় থাকে এবং পরিস্কার জমে থাকা জলেতে বংশবিস্তার করে—যেমন পাত্রে, ফুলের টবে, টায়ারে, কুলারে, বালতিতে ও খোলা ট্যাঙ্কে।
চিকুনগুনিয়া কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
চিকুনগুনিয়ার কোনো ভ্যাকসিন এখনো নেই, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা। প্রতিরোধের কিছু উপায়—
- বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে জমে থাকা জল দূর করা
- নিয়মিত জল সংরক্ষণ পাত্র পরিষ্কার করা
- খোলা ত্বকে মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা
- দিনের বেলা ফুল হাতা জামা পরা
- দরজা ও জানালায় নেট লাগানো
চিকুনগুনিয়া কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
শুধু লক্ষণের ভিত্তিতে চিকুনগুনিয়া নিশ্চিত করা যায় না, কারণ এটি ডেঙ্গুর মতো দেখতে। নির্ণয় করা হয়—
- রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যান্টিবডি (IgM/IgG) বা ভাইরাল RNA শনাক্ত করে
- CBC টেস্টে প্লেটলেট সংখ্যা ও সংক্রমণের মাত্রা দেখে
চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলি লক্ষ্য দেখা দিলে, Chikungunya Virus Antibody test বুক করে একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে সঠিক রোগ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ। সুবিধাজনকভাবে পরীক্ষা বুক করতে, download the Dr Lal PathLabs app টি ডাউনলোড করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
1. কোন মশার কামড়ে চিকুনগুনিয়া হয়?
চিকুনগুনিয়া ছড়ায় সংক্রমিত এডিস ইজিপ্টাই বা এডিস অ্যালবোপিক্টাস মশার কামড়ে, যারা মূলত দিনের বেলা সক্রিয় থাকে।
2. ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?
উভয় রোগই এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ালেও, ডেনগুতে সাধারণত প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায় এবং রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। চিকুনগুনিয়া দীর্ঘস্থায়ী তীব্র জয়েন্ট ব্যথা সৃষ্টি করে, যা সুস্থ হওয়ার পরও থাকতে পারে।
3. চিকুনগুনিয়া থেকে সুস্থ হতে কতদিন লাগে?
বেশিরভাগ মানুষ 1–3 সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে—বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে—জয়েন্ট ব্যথা ও ক্লান্তি কয়েক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে।







