logo

হাঁপানি (অ্যাজমা) কী? জানুন কারণ, লক্ষণ ও সহজ প্রতিকার

Medically Approved by Dr. Shuchi

Table of Contents

Asthma in Bengali

হাঁপানি এমন একটি শারীরিক অবস্থা যা শ্বাসনালি ফুলে ওঠা এবং সংকুচিত হওয়ার কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট সৃষ্টি করে। এতে বুক চাপ লাগা, কাশি, শ্বাসের সময় সাঁ সাঁ শব্দ হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণ উদ্দীপকের মধ্যে আছে অ্যালার্জি, ধোঁয়া, ঠান্ডা আবহাওয়া, ব্যায়াম, তীব্র গন্ধ এবং মানসিক চাপ।

এই প্রবন্ধে হাঁপানি, এর কারণ এবং প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

হাঁপানি কী?

হাঁপানি একটি শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা যা শ্বাসনালিতে ফোলাভাব ও জ্বালা সৃষ্টি করে। ফলে যাঁরা এ সমস্যায় ভোগেন তাঁরা পরাগরেণু, ব্যায়াম অথবা ঠান্ডা বাতাসের মতো উদ্দীপকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। হাঁপানির তীব্র আক্রমণের সময় শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে যায়, ফুলে ওঠে এবং মিউকাস তৈরি করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, কাশি বা সাঁ সাঁ শব্দ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এসব পরিস্থিতি জীবনঘাতী হতে পারে।

হাঁপানির উপসর্গ কী কী?

হাঁপানির উপসর্গ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কিছু সাধারণ উপসর্গ হল—

 

  1. শ্বাসকষ্ট
  2. কাশি
  3. বুক চাপ বা ব্যথা
  4. শ্বাস ছাড়ার সময় সাঁ সাঁ শব্দ (বিশেষত শিশুদের হাঁপানির ক্ষেত্রে দেখা যায়)
  5. শ্বাসকষ্ট, কাশি বা সাঁ সাঁ শব্দের কারণে ঘুমের সমস্যা
  6. ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে কাশি বা সাঁ সাঁ শব্দ বেড়ে যাওয়া

 

হাঁপানির কারণ কী?

হাঁপানির সঠিক কারণ জানা যায় না। ধারণা করা হয় জিনগত এবং পরিবেশগত কারণ মিলেই হাঁপানি তৈরি হতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট কারণ এ সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে, যেমন—

 

  1. তামাকের ধোঁয়া
  2. ধুলোকণা
  3. বায়ুদূষণ
  4. পরাগরেণু
  5. পোষা প্রাণীর লোমঝরা
  6. ছত্রাক
  7. ফ্লু বা নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ
  8. শারীরিক পরিশ্রম
  9. ঠান্ডা বাতাস
  10. কিছু খাবারে অ্যালার্জি
  11. কিছু ওষুধ
  12. তীব্র আবেগ ও মানসিক চাপ
  13. গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি)

 

হাঁপানি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?

বর্তমানে হাঁপানির স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে জীবনযাপনে কিছু নিয়ম অনুসরণ করলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়—

 

  1. হাঁপানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা রাখা: ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যাক্তিগত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে যাতে ওষুধের পরিমাণ এবং আক্রমণের সময় করণীয় উল্লেখ থাকে।
  2. উদ্দীপক এড়ানো: বাইরের অ্যালার্জেন ও বিরক্তিকর উপাদান যেমন পরাগরেণু, ছত্রাক, ঠান্ডা বাতাস বা দূষণ হাঁপানি বাড়াতে পারে। নিজের উদ্দীপকগুলো চিহ্নিত করে সেগুলি এড়াতে হবে।
  3. শ্বাসপ্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ: কাশি বা সাঁ সাঁ শব্দের মতো লক্ষণ দেখে আগেভাগে আক্রমণের ইঙ্গিত বোঝা জরুরি। বাড়িতে পিক ফ্লো মিটার দিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করা যেতে পারে।
  4. থমিক পর্যায়েই চিকিৎসা: শ্বাসকষ্ট বাড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পিক ফ্লো কমে গেলে ওষুধ নিতে হবে এবং উদ্দীপক কাজ বন্ধ করতে হবে। উপসর্গ না কমলে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।
  5. ইনহেলার ব্যবহারের হিসাব রাখা: বারবার ইনহেলার নিতে হলে বুঝতে হবে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে নেই। এমন হলে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

 

যাঁদের হাঁপানির ঝুঁকি বেশি, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত এবং Dr Lal PathLabs app-এ হাঁপানির পরীক্ষা বুক করা উচিত।

 

সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

  1. হাঁপানি কি পুরোপুরি সারানো যায়?
    না, হাঁপানি আজীবন থাকা একটি অবস্থা। শিশু বড় হলে উপসর্গ কমতে পারে, তবে রোগটি থাকে।
  2. মানসিক চাপ কি হাঁপানি বাড়ায়?
    হ্যাঁ, তীব্র আবেগ বা চাপ শ্বাসনালি টেনে ধরে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস বাড়িয়ে হাঁপানি বাড়াতে পারে।
  3. হাঁপানিতে কি প্রতিবন্ধিত্ব সুবিধা পাওয়া যায়?
    তীব্র হাঁপানি যাঁদের শিরায় ওষুধ দিতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধিত্ব সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
13 Views

Get Tested with Doctor-Curated Packages for a Healthier Life

Related Posts

Categories

Other Related Articles