প্রোল্যাকটিন কী? দেহে এই হরমোনের ভূমিকা
Medically Approved by Dr. Shuchi
Table of Contents

হরমোন হলো রাসায়নিক বার্তাবাহক যা বৃদ্ধি, বিপাক, মেজাজ এবং প্রজননের মতো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। এদের মধ্যে প্রোল্যাকটিন এমন একটি হরমোন যা হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রোল্যাকটিন কী?
প্রোল্যাকটিন হলো পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন একটি হরমোন। পিটুইটারি গ্রন্থি হলো মস্তিষ্কের গোড়ায় অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি। এটি প্রধানত সন্তান প্রসবের পর স্তন্যদুগ্ধ উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগায়। তবে, স্তন্যদান ছাড়াও শরীরের আরও বিভিন্ন কার্যকলাপে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কী কারণে প্রোল্যাকটিনের মাত্রা পরিবর্তিত হয়?
বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও চিকিৎসাগত কারণে শরীরে প্রোল্যাকটিন হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যদান হলো এর মাত্রা বৃদ্ধির সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এ ছাড়াও, মানসিক চাপ, ঘুম এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধও প্রোল্যাকটিন নিঃসরণকে প্রভাবিত করতে পারে।
পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যার মতো শারীরিক অসুস্থতার কারণেও প্রোল্যাকটিনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, পিটুইটারি গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রোল্যাকটিনের মাত্রা কমে যেতে পারে।
দেহে প্রোল্যাকটিনের ভূমিকা কী?
প্রোল্যাকটিন হরমোন শরীরে একাধিক কাজ করে থাকে:
- এটি প্রসবের পর স্তন্যদুগ্ধ উৎপাদনে সাহায্য করে।
- এটি প্রজনন স্বাস্থ্যকে সমর্থন করে।
- এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে।
- এটি মানসিক ও আবেগিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।
- এটি বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় অবদান রাখে।
উচ্চ প্রোল্যাকটিন মাত্রা বলতে কী বোঝায়?
উচ্চ প্রোল্যাকটিন মাত্রা, যা হাইপারপ্রোল্যাকটিনেমিয়া নামেও পরিচিত, রক্তে অতিরিক্ত প্রোল্যাকটিন জমা হলে ঘটে। এই অবস্থাটি পুরুষ ও মহিলা উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে।
উচ্চ প্রোল্যাকটিন মাত্রার লক্ষণ
মহিলাদের শরীরে প্রোল্যাকটিন হরমোন বেড়ে গেলে কী হয়? নিচে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো:
- অনিয়মিত বা বাদ পড়া পিরিয়ড
- গর্ভাবস্থা ছাড়াই অস্বাভাবিক স্তন্যদুগ্ধ উৎপাদন
- বন্ধ্যাত্ব সমস্যা
- যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস
- মাথাব্যথা বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা (কিছু ক্ষেত্রে)
প্রোল্যাকটিনের মাত্রা কম বলতে কী বোঝায়?
যদিও কম সাধারণ, প্রোল্যাকটিনের মাত্রা কমেও যেতে পারে। এই অবস্থাটি সাধারণত পিটুইটারি গ্রন্থির কর্মহীনতার সাথে সম্পর্কিত।
প্রোল্যাকটিন মাত্রা কম থাকার লক্ষণ
- প্রসবের পর বুকের দুধ উৎপাদন কমে যায়।
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
- সম্ভাব্য প্রজনন সমস্যা
প্রোল্যাকটিন কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
রক্তে প্রোল্যাকটিনের মাত্রা পরিমাপ করার জন্য প্রোল্যাকটিন পরীক্ষা করা হয়। এটি একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা।
কখন প্রোল্যাকটিন পরীক্ষা করা হয়?
- অনিয়মিত মাসিক চক্র মূল্যায়ন করতে
- বন্ধ্যাত্বের কারণগুলো পরীক্ষা করতে
- স্তন থেকে ব্যাখ্যাতীত নিঃসরণের কারণ অনুসন্ধান করতে
- পিটুইটারি গ্রন্থির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে
পরীক্ষার ফলাফলে কী আশা করা যায়?
লিঙ্গ এবং শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে প্রোল্যাকটিনের স্বাভাবিক মাত্রা পরিবর্তিত হয়:
- প্রাপ্তবয়স্ক অ-গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে: সাধারণত ৪-২৩ এনজি/এমএল, যা মাসিক চক্র চলাকালীন সামান্য পরিবর্তিত হয়।
- গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে: এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ৩৪-৩৮৬ ng/mL পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে।
- মেনোপজ-পরবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে: হরমোনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে এর মাত্রা সাধারণত কম থাকে, প্রায় ২-২০ ng/mL।
- প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে: সাধারণত এর মাত্রা ৩-১৫ ng/mL-এর মধ্যে থাকে এবং তা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে।
- শিশু ও কিশোর-কিশোরী: বয়ঃসন্ধির আগে এর মাত্রা কম থাকে এবং বয়ঃসন্ধিকালে তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
ফলাফল সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।
অনিয়মিত মাসিক, বন্ধ্যাত্ব বা স্তন থেকে অস্বাভাবিক নিঃসরণের মতো উপসর্গ থাকলে, হরমোনের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য প্রোল্যাকটিন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা এবং ডঃ লাল প্যাথল্যাবস মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষাটি বুক করার সুপারিশ করা হচ্ছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
- প্রোল্যাকটিনের প্রধান কাজ কী?
প্রসবের পর স্তন্যদুগ্ধ উৎপাদন উদ্দীপিত করাই প্রোল্যাকটিনের প্রধান কাজ। - মহিলাদের শরীরে প্রোল্যাকটিন হরমোন বেড়ে গেলে কী হয়?
প্রোল্যাকটিনের মাত্রা বেশি হলে তা ডিম্বস্ফোটনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং এর ফলে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। - প্রোল্যাকটিন কি শুধু মহিলাদের শরীরেই থাকে?
না, প্রোল্যাকটিন হরমোন পুরুষ ও মহিলা উভয়ের দেহেই উপস্থিত থাকে, যদিও এর ভূমিকা ভিন্ন। - প্রোল্যাকটিন পরীক্ষা কী কাজে করা হয়?
প্রোল্যাকটিন পরীক্ষা হরমোনের মাত্রা পরিমাপ করতে এবং এ সম্পর্কিত হরমোনগত ভারসাম্যহীনতা নির্ণয় করতে সাহায্য করে। - প্রোল্যাকটিন হরমোন কমাতে কী কী খাবার খাওয়া যায়?
প্রোল্যাকটিন হরমোন কমাতে এবং ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। - মহিলাদের প্রোল্যাকটিন হরমোন কীভাবে কমানো যায়?
ব্যবস্থাপনা কারণের উপর নির্ভর করে। একজন ডাক্তার অন্তর্নিহিত কারণগুলো মূল্যায়ন করতে পারেন, এবং পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। পরামর্শ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।








