ইউরিক অ্যাসিড কী? ইউরিক অ্যাসিড কমানোর উপায়
- 17 Jun, 2026
- Written by Team Dr Lal PathLabs
Medically Approved by Dr. Shuchi
Table of Contents

শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে তা অস্থিসন্ধি ও কিডনিতে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা এবং তা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এই প্রবন্ধে ইউরিক অ্যাসিড কী , এর লক্ষণসমূহ এবং কীভাবে তা কমানো যায়, তা আলোচনা করা হয়েছে ।
ইউরিক অ্যাসিড কী?
ইউরিক অ্যাসিড । পিউরিন হলো এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা নির্দিষ্ট কিছু খাবারে এবং শরীরে পাওয়া যায়। ইউরিক অ্যাসিড রক্তে দ্রবীভূত হয় এবং কিডনি দ্বারা পরিস্রুত হয়ে মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের আধিক্যকে হাইপারইউরিসেমিয়া বলা হয়। এর ফলে সূঁচের মতো স্ফটিক তৈরি হয় যা অস্থিসন্ধি এবং কিডনিতে জমা হয়ে গেঁটেবাত ও কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে। ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেছে কিনা তা শনাক্ত করা যায় ।
উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের কারণ কী?
বিভিন্ন কারণে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এগুলো হলো—
- পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, যেমন লাল মাংস, সামুদ্রিক খাবার এবং অ্যালকোহল
- পরিবারে উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড বা গেঁটেবাতের ইতিহাস
- শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড বের করে দিতে পারে না।
- স্থূলতা
- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের মতো চিকিৎসা পরিস্থিতি
ইউরিক অ্যাসিডের লক্ষণগুলো কী কী?
হাইপারইউরিসেমিয়ার নিজস্ব কোনো উপসর্গ নেই। ইউরিক অ্যাসিডের উচ্চ মাত্রা সাধারণত তখনই শনাক্ত করা হয়, যখন এর ফলে গেঁটেবাত বা কিডনি পাথরের মতো রোগ সৃষ্টি হয়। গেঁটেবাত এবং কিডনি পাথরের লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ করা যায় ।
গেঁটেবাতের কারণে আক্রান্ত অস্থিসন্ধিগুলোতে থাকে:
- ফোলা
- তীব্র ব্যথা
- সংবেদনশীলতা
- দৃঢ়তা
কিডনি পাথরের লক্ষণগুলো হলো:
- পিঠের নিচের অংশে বা পাশে ব্যথা
- প্রস্রাবে রক্ত
- প্রস্রাব করার সময় অসুবিধা বা ব্যথা
- দুর্গন্ধযুক্ত বা ঘোলাটে প্রস্রাব
ইউরিক অ্যাসিড কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নির্ণয় করার জন্য একজন ডাক্তার ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষা করেন। মহিলাদের জন্য ইউরিক অ্যাসিডের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ১.৫-৬ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এবং পুরুষদের জন্য ২.৫-৭ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার।
ইউরিক অ্যাসিড কমানোর কিছু উপায় কী কী?
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো আনার মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিড কমানো যেতে পারে।
- পিউরিন-সমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় সীমিত করুন: লাল মাংস, মুরগির মাংস এবং সামুদ্রিক খাবারের মতো খাবারগুলিতে পিউরিন বেশি থাকে এবং এগুলো শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
- অ্যালকোহল পরিহার করুন: অ্যালকোহল, বিশেষ করে বিয়ার ও মদ, পিউরিনে ভরপুর। এটি শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড বের করে দেওয়ার ক্ষমতাকেও বাধা দেয় ।
- চিনি গ্রহণ সীমিত করুন: চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয়তে ফ্রুক্টোজ থাকে, যা ভেঙে পিউরিনে পরিণত হয় এবং শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
- পরিমাণে জল পান করুন: প্রচুর পরিমাণে জল পান করলে তা শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড বের করে দিতে সাহায্য করে এবং কিডনিতে পাথর হওয়াও প্রতিরোধ করে।
- ব্যায়াম: ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম একটি কার্যকর উপায়, কারণ স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখলে হাইপারইউরিসেমিয়ার ঝুঁকি কমে ।
- ইউরিক অ্যাসিড কমায় এমন খাবার গ্রহণ করুন : কিছু খাবার ও পানীয় শরীরে ইউরিক অ্যাসিড কমাতে এবং গেঁটেবাতের উপসর্গ উপশম করতে সাহায্য করে । এগুলো হলো –
- চেরি
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন কিউই, কমলা, লেবু এবং ক্যাপসিকাম
- কফি
- ওটস, ব্রাউন রাইস, বার্লির মতো গোটা শস্য
- কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অস্থিসন্ধি এবং কিডনিতে গুরুতর অস্বস্তি সৃষ্টি হয়। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমানো সম্ভব, কিন্তু উপসর্গগুলো অব্যাহত থাকলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন এবং ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ করুন ।
টেস্টটি বুক করতে, এখনই ডঃ লাল প্যাথল্যাবস অ্যাপটি ডাউনলোড করুন !
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
- ইউরিক অ্যাসিড হলে কী খাবেন ?
ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে এমন তিনটি খাবার হলো চেরি, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার এবং কফি। - ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে কী হয়?
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে গেঁটেবাত এবং কিডনিতে পাথর হতে পারে। - কোন পানীয় ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়?
ফ্রুক্টোজ ও অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় (বিয়ার, মদ) ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় ।








