হারপিস: লক্ষণ, সংক্রমণের কারণ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা
- 17 Jun, 2026
- Written by Team Dr Lal PathLabs
Medically Approved by Dr. Shuchi
Table of Contents

হারপিস একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (HSV) দ্বারা সৃষ্ট। এটি বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে যেমন মুখ এবং যৌনাঙ্গে ব্যথাযুক্ত ফোসকা তৈরি করে।
এই ব্লগে আমরা বোঝার চেষ্টা করব হারপিস কেন হয়, এর কারণগুলো কী, উপসর্গ এবং কোন পরীক্ষা দিয়ে শনাক্ত করা যায় এবং চিকিৎসার কার্যকর পরিকল্পনা কীভাবে নেওয়া যায়।
হারপিস রোগ কী?
হারপিস রোগ একটি সংক্রামক সংক্রমণ যা হারপিস ভাইরাস থেকে আসে। এই রোগকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
- HSV-1 (মুখের হারপিস, যেমন ঠোঁটের ফোসকা)
- HSV-2 (যৌনাঙ্গের হারপিস)
এটি ত্বক-থেকে-ত্বকের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রায়ই নার্ভ কোষে শোকানো অবস্থায় থাকে। হারপিস রোগের কোনো সম্পূর্ণ চিকিৎসা নেই, অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য নয়। তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
হারপিস কেন হয়?
হারপিস তখন ঘটে যখন শরীরে ইতিমধ্যেই থাকা হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (HSV) নার্ভ কোশে শুষ্ক অবস্থা থেকে সক্রিয় হয়। এর প্রভাব বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন:
- দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকা
- শারীরিক আঘাত বা সার্জারি
- দুর্বল প্রতিরক্ষা ক্ষমতা
- মাসিক (মেনস্ট্রুয়েশন)
- আর্জিনিন বেশি যুক্ত খাবার গ্রহণ
হারপিস ভাইরাসের কারণ কী?
হারপিস ভাইরাস বা HSV একটি মানুষের থেকে অন্য মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে। এর অর্থ, একজনকে সংক্রমিত রোগীর:
- ত্বক বা দৃশ্যমান ফোসকা
- মিউকাসাল সারফেস যেমন মুখ, যোনি, বা মলদ্বার
- লালা, যোনি থেকে নিঃসৃত তরল, বা বীর্যের সংস্পর্শে আসা
হরপিসের উপসর্গ কী কী?
হারপিস সংক্রমণের উপসর্গ তার ধরণের উপর নির্ভর করে। বিস্তারিতভাবে উপসর্গগুলো হলো:
- যৌনাঙ্গের হারপিস: যৌনাঙ্গে ফোসকা তৈরি হয়। ফোসকা হওয়ার 48 ঘণ্টার মধ্যে জ্বর, মাথা ব্যথা, যৌনাঙ্গের চুলকানি এবং লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া দেখা দিতে পারে।
- চক্ষুর হারপিস বা হরপেস কেরাটাইটিস: চোখে জ্বালা, আলোতে সংবেদনশীলতা, এবং চোখের চারপাশে ফোসকা তৈরি হয়।
- হারপেটিক হুইটলো: আঙুলে ফোসকা এবং ফিঙ্গারনেলের চারপাশের ত্বকের রঙের পরিবর্তন।
- হারপিস গ্ল্যাডিয়েটরাম: হাত, মুখ, কান এবং বুকের ত্বকে ফোসকা দেখা যায়।
হারপিসের পরীক্ষা ও চিকিৎসা কী কী?
হারপিস শনাক্তের জন্য চিকিৎসকরা শারীরিক পরীক্ষা করেন। এছাড়াও তারা নিচের মতো পরীক্ষা সুপারিশ করতে পারেন:
- HSV পরীক্ষা: ফোসকা থেকে নমুনা নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা করে হারপিস ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
- রক্ত পরীক্ষা: যদি ফোসকা না হয়, রক্ত পরীক্ষা করে HSV-1 বা HSV-2 এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি খোঁজা হয়। অ্যান্টিবডি উপস্থিত থাকলে বোঝা যায় আগে হারপিস ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে।
এই অবস্থার চিকিৎসার জন্য, ডাক্তাররা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ, ত্বকের জন্য ক্রিম বা মলম, চোখের ড্রপ ইত্যাদি প্রিসক্রাইব করতে পারেন।
মুখ ও যৌনাঙ্গ সংক্রান্ত হারপিসের জন্য, চিকিৎসা দুটি শাখায় বিভক্ত হতে পারে:
- এপিসোডিক থেরাপি: এই ধরনের চিকিৎসা তখন ডাক্তাররা পরামর্শ দেন যখন একটি একক প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটে। এটি একটি স্বল্পমেয়াদী চিকিৎসা, যা হারপিস রোগের গুরুতর পর্যায়গুলো থেকে রক্ষা করে।
- ক্রনিক সাপ্রেসিভ থেরাপি: এই চিকিৎসায় সাধারণত ডাক্তাররা যৌনাঙ্গের হারপিস এবং যারা ঘন ঘন বা গুরুতর প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হন তাদের জন্য পরামর্শ দেন। এখানে, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধগুলো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের দ্বারা নির্ধারিত হয়।
উপরোক্ত উল্লেখিত হারপিসের উপসর্গগুলো দেখা দিলে, কোনো ওষুধ নেওয়ার আগে অবশ্যই ব্যক্তিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। চিকিৎসক HSV পরীক্ষার কথা বললে Dr. Lal PathLabs app এর মাধ্যমে বুক করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
1. হারপিস কেন হয়?
হারপিস তখনও হতে পারে যখন হারপিস ভাইরাস মিউকাস মেমব্রেন বা ক্ষত ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে, যা চাপ, অসুস্থতা বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে সক্রিয় হয়।
2. হারপিস ভাইরাসের কারণ কী?
হারপিস ভাইরাসের কারণগুলো হতে পারে: ত্বকের আসিম্পটোম্যাটিক শেডিং, যৌন সম্পর্কের সময় সরাসরি সংস্পর্শ, বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র শেয়ার করা।








