কোলোরেক্টাল ক্যান্সার কী? লক্ষণ, কারণ, প্রাথমিক লক্ষণ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা
- 5 Jun, 2026
- Written by Team Dr Lal PathLabs
Medically Approved by Dr. Shuchi
Table of Contents

ভারতে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার বর্তমানে চতুর্থ সর্বাধিক সাধারণ ক্যান্সার হিসেবে চিহ্নিত। 2022 সালে এই ক্যান্সারে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন 64,863 জন এবং মৃত্যু হয়েছে 38, 367 জনের। পরিবর্তিত জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপটে এই সংখ্যা ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে এই রোগ অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার নিরীহ পলিপ থেকে শুরু হয়, যা নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে আগেই অপসারণ করা সম্ভব।
এই ব্লগে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার কী, এর কারণ, লক্ষণ ও উপসর্গ, এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো সম্পর্কে একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো।
কোলোরেক্টাল ক্যান্সার কী?
কোলোরেক্টাল ক্যান্সার শুরু হয় যখন মলাশয় (রেক্টাম) বা বৃহদান্ত্র (কোলন)-এর অভ্যন্তরীণ আস্তরণের কোশগুলো অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং টিউমার তৈরি করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি অ্যাডেনোমাটাস পলিপ থেকে ধীরে ধীরে প্রায় 10 বছরে বিকশিত হয়। ফলে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে প্রতিরোধের যথেষ্ট সুযোগ থাকে।
এই ক্যান্সার প্রধানত 45 বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে কম বয়সীদের মধ্যেও এর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। একটি সাধারণ কোলোনোস্কপি পরীক্ষার মাধ্যমে এই পলিপগুলো শনাক্ত ও অপসারণ করা যায়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের কারণ কী?
এই ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে কোষের DNA-তে পরিবর্তনের ফলে কোশ দ্রুত বিভাজিত হয়ে টিউমার তৈরি করতে পারে।
নিচে কিছু ঝুঁকির কারণ দেওয়া হলো, যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে:
- পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস
- ক্রোনস রোগের মতো অন্ত্রের রোগ
- স্থূলতা ও শারীরিক অনুশীলনের অভাব
- অতিরিক্ত মদ্যপান
- বেশি পরিমাণে লাল মাংস খাওয়া
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের লক্ষণ ও উপসর্গ
প্রাথমিক পর্যায়ে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের লক্ষণ সাধারণত স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। ফলে অনেকেই শুরুতে এগুলো উপেক্ষা করেন। নিচে রোগীদের মধ্যে দেখা যেতে পারে এমন 10টি সাধারণ উপসর্গ উল্লেখ করা হলো:
-
- দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
- মলের সঙ্গে রক্তপাত
- পেটব্যথা, ক্র্যাম্প, গ্যাস বা ফাঁপা ভাব
- সম্পূর্ণভাবে পেট পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি
- অকারণে ক্লান্তি বা দুর্বলতা
- অজান্তেই ওজন কমে যাওয়া
- মলের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে সরু হয়ে যাওয়া
- আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া)
- বমি বমি ভাব বা বমি
- সবসময় মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করা
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের পরীক্ষা কী কী?
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের পরীক্ষা রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে সাহায্য করে, অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশের আগেই। চিকিৎসকেরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে কোলন পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করেন:
-
- স্টুল টেস্ট যেমন FIT বা gFOBT, যা মলে লুকানো রক্ত শনাক্ত করে
- কোলোনোস্কপি, যার মাধ্যমে পুরো কোলন দেখা ও পলিপ অপসারণ করা যায়
- বায়োপসি, সন্দেহজনক টিস্যু মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করার জন্য
- CEA-এর মতো টিউমার মার্কারের জন্য রক্ত পরীক্ষা
- সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা আল্ট্রাসাউন্ডের মতো ইমেজিং স্ক্যান, যা টিউমারের স্তর নির্ধারণে সাহায্য করে
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের চিকিৎসা কী?
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের চিকিৎসার লক্ষ্য হলো ক্যান্সার অপসারণ এবং এর বিস্তার রোধ করা। টিউমারের স্তর ও অবস্থান অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন। সাধারণত চিকিৎসার মধ্যে সার্জারি ও থেরাপি অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন পলিপেক্টমি, আংশিক কোলেক্টমি, কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপি।
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের উপরোক্ত লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর যদি চিকিৎসক colorectal cancer test-এর পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তবে আজই Dr Lal PathLabs অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষা বুক করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ
1. রোগীদের মধ্যে ক্যান্সারের ১০টি উপসর্গ কী কী?
উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, মলে রক্ত, পেটব্যথা বা ফাঁপা ভাব, সম্পূর্ণভাবে পেট পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি, ক্লান্তি, অজান্তে ওজন কমে যাওয়া, সরু মল, রক্তাল্পতা, বমি বমি ভাব এবং সবসময় মলত্যাগের তাগিদ।
2. কোলোরেক্টাল ক্যান্সার পরীক্ষা কী?
কোলোরেক্টাল ক্যান্সার পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে মলে লুকানো রক্ত পরীক্ষার মতো স্টুল টেস্ট, কোলোনোস্কপি করে কোলন পর্যবেক্ষণ ও বায়োপসি, টিউমার মার্কার পরীক্ষা এবং ক্যান্সারের স্তর নির্ধারণের জন্য ইমেজিং স্ক্যান।







