কেন জন্ডিস হয়? জেনে নিন লক্ষণ, প্রতিকার ও জন্ডিস কমানোর উপায়
- 7 Jan, 2026
- Written by Team Dr Lal PathLabs
Medically Approved by Dr. Shuchi
Table of Contents

জন্ডিস একটি এমন অবস্থা যেখানে চোখ, ত্বক ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়। রক্তে অতিরিক্ত বিলিরুবিন জমে গেলে জন্ডিস হয়। এ কারণেই কেন জন্ডিস হয়—তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং এটি সাধারণত শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে লিভারের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা। জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয়, বরং এটি একটি লক্ষণ যে শরীরের ভেতরে কোনো কিছু ঠিকভাবে কাজ করছে না। যদি একে অবহেলা করা হয় বা সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তবে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
জন্ডিস কী?
জন্ডিস স্বাস্থ্যগত অবস্থা যেখানে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়, কারণ রক্তে বিলিরুবিন জমে যায়। বিলিরুবিন তৈরি হয় যখন পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়। সাধারণত লিভার এই বিলিরুবিন ছেঁকে শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে বিলিরুবিন শরীরে জমে যায়।
এর কারণ হতে পারে:
- লিভার ঠিকভাবে কাজ না করা
- পিত্তরসের প্রবাহে বাধা
- খুব দ্রুত বিলিরুবিন তৈরি হওয়া
জন্ডিসের কারণ কী?
জন্ডিস বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন:
- লিভারের সংক্রমণ
- দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মদ্যপান
- ফ্যাটি লিভার, জেনেটিক বা অটোইমিউন রোগ
- পিত্তনালীতে বাধা
- লোহিত রক্তকণিকার দ্রুত ভাঙন
- কিছু ওষুধ যা লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে
জন্ডিসের লক্ষণ কী কী?
জন্ডিসের লক্ষণ কারণ ও রোগের গতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে হালকা লক্ষণ দেখা যায়, আবার কারও ক্ষেত্রে তীব্র সমস্যা হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
- ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া
- গাঢ় রঙের প্রস্রাব
- ফ্যাকাশে বা মাটির রঙের মল
- জ্বর ও কাঁপুনি
- পেটের ব্যথা বা অস্বস্তি
- ত্বকে চুলকানি
- ক্ষুধামান্দ্য ও অকারণে ওজন কমে যাওয়া
- অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি
- সহজে আঘাতের দাগ পড়া, রক্তপাত বা রক্ত বমি
জন্ডিসের প্রতিকার কী?
জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা ও আরোগ্য সম্ভব হয়। জন্ডিস কমানোর কিছু সাধারণ উপায় হলো:
- সংক্রমণ বা রক্তজনিত সমস্যার মতো মূল কারণের চিকিৎসা করা
- লিভারের প্রদাহ কমাতে বা লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ সেবন
- জীবনযাত্রার পরিবর্তন, যেমন মদ্যপান এড়ানো এবং জন্ডিস হলে কী খাবেন সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
- পিত্তপাথর, টিউমার অপসারণ বা বন্ধ পিত্তনালী পরিষ্কার করার জন্য চিকিৎসা পদ্ধতি
- ফোটোথেরাপি, যা মূলত নবজাতকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিলিরুবিন ভাঙতে ব্যবহৃত হয়
জন্ডিস কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
নিচের সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে জন্ডিসের লক্ষণ ও ঝুঁকি কমানো যায়:
- হেপাটাইটিসের টিকা নেওয়া
- অনিরাপদ সূচ ব্যবহার এড়ানো
- মদ্যপান সীমিত করা
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
- খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা
- যাচাইবিহীন হার্বাল বা প্রাকৃতিক সাপ্লিমেন্ট এড়ানো
সময়মতো চিকিৎসা না করলে জন্ডিস গুরুতর ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, Dr Lal PathLabs app -এ টেস্ট বুক করুন এবং জন্ডিস টেস্ট রিপোর্ট পর্যালোচনা করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
- জন্ডিস কীভাবে কমানো যায়?
জন্ডিস কমানোর উপায়গুলোর মধ্যে রয়েছে মূল কারণের চিকিৎসা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, হালকা খাবার খাওয়া ও মদ্যপান এড়ানো। - জন্ডিসে কী সমস্যা হয়?
লিভার ঠিকভাবে বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে রক্তে বিলিরুবিন জমে যায় এবং তখনই জন্ডিস হয়। - জন্ডিস কি খুব গুরুতর?
চিকিৎসা না করলে জন্ডিস গুরুতর হতে পারে, কারণ এটি লিভারের রোগ বা সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়, যার জন্য চিকিৎসা জরুরি।








