logo

রেবিসের উপসর্গ কী? রেবিসের কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা ব্যাখ্যা করা হলো

Medically Approved by Dr. Shuchi

Table of Contents

Symptoms of rabies
WHO-এর অনুমান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী রেবিসজনিত মৃত্যুর প্রায় 36% ঘটে ভারতে। এই মৃত্যুর অধিকাংশই 15 বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে দেখা যায়, কারণ প্রাথমিক উপসর্গগুলো প্রায়ই চিহ্নিত করা যায় না।

 

এটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্তকরণ ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।

 

এই নিবন্ধে রেবিস কী, এর কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

 

রেবিস কী?

রেবিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সংক্রমিত প্রাণীর কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। ভাইরাসটি কামড়ের স্থান থেকে স্নায়ুকোষের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে দ্রুত বংশবিস্তার করে। এর ফলে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

রেবিসের কারণ কী?

রেবিস একটি ভাইরাস, যা প্রাণীর কামড়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সংক্রমিত স্তন্যপায়ী প্রাণীর লালারসেই এই ভাইরাস থাকে। এইগুলোর মধ্যে থাকতে পারে—

 

  1. গৃহপালিত প্রাণী
    যেমন বিড়াল, গরু, কুকুর, ছাগল, ফেরেট, ঘোড়া।
  2. বন্য প্রাণী
    যেমন বাদুড়, শিয়াল, বিভার, র‍্যাকুন, বানর, কোয়োট, স্কাঙ্ক ও উডচাক।
  3. সংক্রমণের অন্যান্য উপায়
    সংক্রমিত প্রাণীর খোলা ক্ষত বা শ্লেষ্মা ঝিল্লি (চোখ, নাক, মুখ)-র সংস্পর্শে এলেও রেবিস ছড়াতে পারে।

রেবিসের উপসর্গ কী কী?

রেবিসের উপসর্গ শরীরে প্রকাশ পেতে কিছুটা সময় লাগে। কামড়ের পর উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগের সময়কালকে ইনকিউবেশন পিরিয়ড বলা হয়, যা এক সপ্তাহ থেকে এক বছর পর্যন্ত হতে পারে। প্রাথমিক উপসর্গ তখনই দেখা যায়, যখন ভাইরাস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছায়। এগুলো অনেকটা ফ্লু-এর মতো, যেমন—

 

  1. জ্বর
  2. পেশির দুর্বলতা
  3. মাথাব্যথা
  4. উদ্বেগ
  5. গলা ব্যথা
  6. বমি বমি ভাব ও বমি
  7. কামড়ের স্থানে জ্বালাপোড়া
  8. ডায়রিয়া

 

চূড়ান্ত পর্যায়ে, যাকে তীব্র স্নায়বিক পর্যায় বলা হয়, উপসর্গ দুই ধরণের হতে পারে—ফিউরিয়াস বা প্যারালাইটিক।

 

  1. ফিউরিয়াস রেবিসের উপসর্গ
    উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি, অনিদ্রা, খিঁচুনি, হ্যালুসিনেশন, অনিচ্ছাকৃত পেশির ঝাঁকুনি, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ বা মুখে ফেনা, চোখের মণির আকার ভিন্ন হওয়া, মুখের পক্ষাঘাত, অতিসক্রিয়তা, জল বা পান করতে ভয়, বাতাসে ভয়।
  2. প্যারালাইটিক রেবিসের উপসর্গ
    মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, ঝিনঝিনে অনুভূতি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, পক্ষাঘাত। এই পর্যায়ের শেষে আক্রান্ত ব্যক্তি কোমায় চলে যেতে পারেন এবং মৃত্যু হতে পারে। WHO-এর মতে, মানুষের রেবিসের প্রায় ২০% ক্ষেত্রে প্যারালাইটিক রেবিস দেখা যায়।

 

রেবিসের চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?

রেবিসের সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো টিকাকরণ। কোনো ব্যক্তি রেবিসে আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে প্রথমেই কামড়ের ক্ষত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরি। এরপর রেবিস টিকা ও রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন দেওয়া হয়, যা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং ভাইরাসকে স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছাতে বাধা দেয়। সম্ভাব্য সংক্রমিত প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। সহজে পরীক্ষা বুকিং ও রিপোর্ট পাওয়ার জন্য এখনই Dr Lal PathLabs app ডাউনলোড করুন।

 

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

  1. রেবিস কি প্রাণঘাতী?
    হ্যাঁ, একবার রেবিসের উপসর্গ দেখা দিলে এটি প্রাণঘাতী। তবে উপসর্গ প্রকাশের আগেই দ্রুত চিকিৎসা ও পোস্ট-এক্সপোজার টিকাকরণ করলে রেবিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।
  2. রেবিস টিকার দাম কত?
    রেবিস টিকার দাম তার ব্র্যান্ড, ধরণ ও কোথা থেকে নেওয়া হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে।
18 Views

Get Tested with Doctor-Curated Packages for a Healthier Life

Related Posts

Categories

Other Related Articles